বন্যার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যা হতে পারে, পূর্বাভাস সে রকম পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন একনেকে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ১১ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম।
ভূমি অধিগ্রহণে কৃষি কাজ যেন ব্যহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে এক প্রকল্পের জন্য যেন একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়, সেকথা বলেছেন তিনি। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এক পিডিকে একটার বেশি প্রকল্প দেয়া যাবে না। ঢাকার আশপাশে কৃষি জমিতে দেখা যায় আবাসন কাজ হচ্ছে। যেখানে কিছু জমি আছে কৃষি কাজ যেন ব্যহত না হয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষভাবে দেখতে হবে। পুনর্বাসন কঠিন কাজ। তিন ফসলি এলাকায় প্রকল্প নেয়া যাবে না কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বাজেট বাস্তবায়ন সুচারো করতে হবে। শেষ মুহূর্তে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের কী অবস্থা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সব ঝুঁকিপূর্ণ থানা উন্নয়নের নির্দেশ: দেশের যত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ থানা রয়েছে সেগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ থানার অবস্থা বেহাল। যারা আমাদের নিরাপত্তা দেয় তারা (পুলিশ) যদি অনিরাপদ থাকে তাহলে তারা কীভাবে নিরাপত্তা দেবে। এজন্য দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ থানা উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের আবহাওয়া পরিবেশগত যে ধারণা বা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে বন্যা হতে পারে। সেজন্য বন্যার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাজেট দেয়ার সময় বৃষ্টি হয় কাজ করা যায় না। এই সময়ে প্রস্তুতিমূলক ও পেপার কাজ শেষ করে বৃষ্টি থামার পর মূল কাজ করতে পারি সেই উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রকল্পের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেহেতু বৃষ্টির কারণে মাঠে প্রকল্পের কাজ করা যায় না সেজন্য কাগুজে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কাজের মান নিশ্চিত করতে সবারই দায়িত্ব আছে। আগামী ৪ জুন সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। যাতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত হয়। এ বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালের দিকে উন্নত দেশে চলে আসব আমরা। এজন্য আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
একনেকে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ১১ প্রকল্প অনুমোদন: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজকের এক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার জন্য ব্যয় হবে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ২১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ১৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক-এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘বরগুনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং ‘মুন্সীগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘রায়পুরা ১২০ মেগাওয়াট (এসি) পিক গ্রিড টাইড সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট-এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ’ প্রকল্প; শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী’ প্রকল্প; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, কিশোরগঞ্জ, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রাম স্থাপন’ প্রকল্প; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কুমিল্লা-সালদা-কসবা (সৈয়দাবাদ) সড়ককে (এন-১১৪) জাতীয় মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘নগরাঞ্চলের ভবন সুরক্ষা’ প্রকল্প; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানার প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র.আ.ম. উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান মন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজির মূখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সিনিয়র সচিব ও সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

একনেকে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ১১ প্রকল্প অনুমোদন
- আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৪ ০৯:২১:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৭-২০২৪ ১০:১১:৫০ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ